সোমবার | ১২ এপ্রিল, ২০২১

রাঙামাটিতে আনারসের বাম্পার ফলন

প্রকাশঃ ০৯ মার্চ, ২০২১ ১০:১০:৫৪ | আপডেটঃ ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০৭:০৪:৩৭
শাহ আলম, সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটিতে ১১শ হেক্টর জমিতে আগাম আনারসের বাম্পার ফলন। আনারসের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দামও পেয়েছে অনেক বেশি। তাই তারা অত্যন্ত খুশি। পার্বত্য জেলায় আনারসের রাজধানী নানিয়ারচর। এখানে পাহাড়ি বাঙালি মিলে কয়েকশ পরিবার আনারসের চাষ করে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগাম আনারসে ভরপুর হয়ে উঠেছে রাঙামাটি সমতাঘাটের বাজার। চারিদিকে রসালো আনারসের গন্ধে মৌ মৌ করছে চারদিকের পরিবেশ। তবে আনারসের আগাম ফলন ভালো হওয়ায় এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশিতে আত্মহারা চাষিরা। বর্তমানে রাঙামাটি শহরের বাজারগুলোতে ধুমধাম বিক্রি হচ্ছে আনারস। এছাড়াও শহরের বাইরে ঢাকা-চট্টগ্রামেও সরবরাহ হচ্ছে নানিয়ারচর, বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নসহ পুরো জেলার আনারস।

এদিকে স্থানীরা আগাম আনারস খেতে পেয়ে অত্যন্ত খুশি । স্থানীয় হাট বাজার থেকে এনে অনেকে ফেরি করে শহরের বিভিন্ন আনাচে কানাচে আনারস বিক্রি করছে বিক্রেতারা।

চাষি ও সংশিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে আনারসের প্রচুর উৎপাদন হচ্ছে। সবচেয়ে অধিক উৎপাদন হচ্ছে নানিয়ারচর উপজেলায়। মৌসুমের আগেই হাটবাজারে এসেছে প্রচুর আনারস। বাজারে বড় সাইজের প্রতি জোড়া আনারস বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। তবে কৃষকদের কাছে পাইকাররা কিনছেন মাত্র ২০-৩০ টাকায়। নানিয়ারচরসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ আনারস জেলা সদরসহ বিভিন্ন বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে রাঙামাটির আনারস যাচ্ছে ঢাকা, শরীতপুর ও চট্টগ্রাম, মিরসরাইসহ বাইরের জেলাতেও।

চাষিরা মনে করছেন, করোনার কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গতবারের আগাম আনারস চাষিরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এবার ভালো ফলন হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তারা আশা করেন।

নানিয়ারচর উপজেলার হাজাছড়া এলাকার বাসিন্দা আনারস বাগান চাষি শান্তি বিকাশ চাকমা জানান, এবার তিনি ৩০ হাজার আনারস চারা রোপণ করেছেন। গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে এবং ভালো দামে বিক্রিও হচ্ছে। আনারস চাষ করতে যা খরচ হয়েছে তার দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন। বড় সাইজের আনারস বিক্রি করছেন জোড়া ৩০-৪০ টাকা এবং ছোট সাইজের আনারস বিক্রি করছেন ১৫-২০ টাকা ধরে।

রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের আরেক চাষি সোহাগ চাকমা জানান, গতবারের তুলনায় এবার আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর করোনায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যা ক্ষতি হয়েছে তা এবার পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করেন। তিনি আরো বলেন, এবার তিনি ৩০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করেছেন।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃঞ্চ প্রসাদ মল্লিক বলেন, ২০২০ সালের গত মৌসুমে এজেলায় আগাম আনারসের চাষ হয়েছিল ২১৩০ হেক্টর জমিতে। এবার আনুমানিক ১১০০ হেক্টর জমিতে আগাম মৌসুমি আনারসের চাষ করা হয়েছে। আগাম আনারস চাষে ফনল বৃদ্ধির জন্য এক ধরনের ভিটামিন ব্যবহার করা হয়। তবে এই ভিটামিন মানবদেহে তেমন ক্ষতিকারক নয়। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষিদের সুপরামর্শ দিয়ে থাকেন। জেলা প্রত্যেক উপজেলাতে আমাদের উপসহকারীরা কৃষকদের সহায়তায় সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।


অর্থনীতি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions