শনিবার | ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২

অবৈধ অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজির কারনে পাহাড়ে পর্যটন শিল্প বিকশিত হচ্ছে না : দীপংকর তালুকদার এমপি

প্রকাশঃ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৭:৫৭:১৬ | আপডেটঃ ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৭:৩১:৪৩
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও অবৈধ অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজির কারনে পাহাড়ে পর্যটন শিল্প বিকশিত হচ্ছে না। কোথাও রাস্তাঘাট ব্রীজ করতে গেলে তাদের চাঁদা দিতে হয়। তবে আমরা ধন্যবাদ জানাই সেনাবাহিনীসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে তাদের অভিযানের ফলে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ব কিছুটা কমলেও অভিযান আরো জোরদার করতে হবে। একই সাথে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। কাপ্তাই লেকের পরিবেশ দুষণ মুক্ত রাখতে হবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা পরিষদ আয়োজিত র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীপংকর তালুকদার এমপি আরো বলেন, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পর্যটন শিল্পে এগিয়ে গেছে, বান্দরবানে একটা সন্ত্রাসী গ্রুপ থাকলেও রাঙামাটিতে ৪টি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না।

তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কটি পর্যটকদের জন্য দর্শণীয় একটি স্থান, এর এক পাশে লেক, অন্য পাশে পাহাড়, সেখানেও চাঁদা চায় উন্নয়ন কাজ করতে দেয় না। সম্প্রতি একটি বেবীটেক্সি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, এসব পর্যটনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য নিউচিং মারমা, মোঃ আব্দুর রহিম,  অংসুইছাইন চৌধুরী, বিপুল ত্রিপুরা, ঝর্ণা খীসা প্রমূখ।

এসময় বক্তারা বলেন, রাঙামাটিকে আগত এসব পর্যটকদের এ জেলার সংস্কৃতি এবং বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, থাকা-খাওয়ার সুবিধাদি এবং পর্যটন স্পটগুলো যদি আরো উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি করতে সরকারে পাশাপাশি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসে তাহলে এ জেলায় পর্যটকের অভাব হবে না। এমপি আরো বলেন, সম্প্রতি পর্যটন শিল্প দেশের আর্থ-সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সরকার ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আর এর অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। প্রকৃতি নির্ভর এই শিল্প পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে পরিপূর্ণ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে আমাদের এ সম্পদকে সুরক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


সভায় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে পর্যটন বিষয়ক প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  বিশ্ব-বিদ্যালয়ের পর্যটন ও ট্যুরিজম বিষয়ক চেয়ারম্যান প্রফেসর খোকনেশ্বর ত্রিপুরা।

সভায় রাঙামাটির বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টের মালিক, লঞ্চ ও বোট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সম্প্রদাযের প্রতিনিধি অংশ নেয়।



এছাড়া আলোচনা সভা শেষে জেলা প্রশাসনে ট্যুরিজম গাইডের উপর প্রশিক্ষন নেয়া প্রশিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।

একই স্থানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে ৪২টি পুজামন্ডপের জন্য দেড় টন করে ৬৩ টন এবং পুজা উদযাপন কমিটিকে ২টন মোট ৬৫টন খাদ্যশষ্যের ডিও লেটার বিতরণ করেন সাংসদ দীপংকর তালুকদার এমপি।


রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions