সাজেকের পাঁচ শিশুর বেঁচে থাকার আশা জাগিয়ে রাখল সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসন

প্রকাশঃ ২৫ মার্চ, ২০২০ ০৯:৪৩:৪৩ | আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল, ২০২০ ০৬:৫৫:৩৬
হিমেল চাকমা, বিশেষ প্রতিনিধি। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি সাজেকে শিলায়দহে  হাম রোগে আক্রান্ত মুমুর্ষ পাঁচ শিশুকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা করায় তাদের  বেঁচে থাকার আশা জাগিয়ে রাখল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসন।

সাজেকে হাম এ আক্রান্ত হয়ে হয়ে গত দুই মাসে ৮জন মারা যায়। সর্বশেষ গতকাল এক শিশুর মৃত্যু হয়। বাকিদের বাঁচিয়ে রাখতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অনুরোধে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে করে  মুমুর্ষ ৫ শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে  দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদহ ও তুইচুই মৌজায় ভারত সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুনপাড়া, লংথিয়ান ত্রিপুরা পাড়া এবং হাউসপাড়া গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হাম রোগে ১ শিশু মারা যায়। আক্রান্ত হয় আরো ১৩০ জন। গত মঙ্গলবার মারা যায় আরো ১ জন। নিয়ে গত এক মাসে মারা যায় ৮জন।

ঘটনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও মেডিকেল টিম শুরু করে, এরপরও গতকাল মঙ্গলবার একজন মারা যায়।
এটি আরো বাড়তে থাকলে হেলিকপ্টারসহ আনুষাঙ্গিক সহযোগিতা চেয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ প্রথমে খাগড়াছড়ি রিজিয়নকে চিঠি পাঠায়। এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ তারিখ খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সহায়তায় একটি মেডিকেল টিম হেলিকপ্টারে করে সাজেকের শিয়ালদহে পৌঁছায়। বুধবারে ৫ জনের অবস্থা বেশী খারাপ হওয়ায় জরুরী ভিত্তিতে সেনাবাহিনীল হেলিকপ্টারে করে বিজিবির সহায়তায় গুরুতর অসুস্থ্য ৫জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জেলা প্রশাসক জানান, খবর পাওয়ার পর থেকে তারা কাজ শুরু করে দেন। আক্রান্তদের চিকিৎসায় নগদ ৫০ হাজার টাকা, দুই দফায়  পুষ্টিকর খাবার এবং খাগড়াছড়ি রিজিয়ন থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং হেলিকপ্টার সপোর্ট দেয়া হয়।

খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের এক কর্মকর্ত বলেন, গত ১৬ মার্চ থেকে রাঙামাটি বাঘাইছড়ি সাজেকের শিয়ালদহ, তুইচুই মৌজায় শিশুদের মাঝে হামের প্রাদুর্ভাবের খবর পেয়েছি। এতে ইতিমধ্যে ৮ জন শিশু মারাও গেছে। গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনী, রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় শিয়ালদহ ৫৪ বিজিবির সাথে সমন্বয়ে গড়া ৫টি মেডিকেল টিম দুর্গম সাজেকে যায়। এ সময় ঔষধসহ  প্রায় ৫০ হাজার টাকার পুষ্টিকর খাদ্য নিয়ে যায় টিমটি। সেখা গিয়ে দেখা যায়, ৫ শিশুকে বাঁচাতে হলে জরুরী ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নেওয়া দরকার। তাদের জরুরী ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নিতে সেনাবাহিনী যা যা করার দরকার তা করেছে। আশংকামুক্ত ১১৬ শিশুদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায় গত ফেব্রুয়ারীতে এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। শুরু থেকে একমাত্র বিজিবি কাজ করে যাচ্ছিল। এরপর তাদের সাথে সেনা ও স্বাস্থ বিভাগ যোগ দেয়।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা.বিপাশ খীসা বলেন,  দুর্গমতা, জনবল সংকট ছাড়াও হাম টিকা গ্রহণের ভীতি, কুসংস্কারের কারণে এসব এলাকায় শিশুদের টিকা আওতায় আনা যায়নি। ফলে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। সেনা, বিজিবি, জেলা প্রশাসন আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সৃষ্ঠ পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি।