রাত পোহালেই কাল ঈদ

প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট, ২০১৯ ১০:৩০:১১ | আপডেটঃ ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:১৭:৪১
বছর ঘুরে আবার খুশির বারতা নিয়ে  এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশের প্রতিটি মুসলমান আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। এ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শেকড়ের টানে ইতিমধ্যেই ফিরে গেছেন শৈশবের চেনা জনপদ গ্রাম-গঞ্জে। মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল আজহা একাধিক কারণে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো হালাল পশু কোরবানি করা এবং সামর্থ্যবানদের জন্য পবিত্র হজ পালন করা।

প্রসঙ্গত, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের কামনায় পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। তাই কোরবানি করাই এই দিনের উত্তম ইবাদত বলে ধর্মীয়ভাবে বলা হয়েছে।

সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারা দেশের মুসলিম সম্প্রদায় কাল দিনের শুরুতেই ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হবে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে নামাজ আদায়ের পর কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ঘুচে যাবে সব ভেদাভেদ। নামাজ শেষে মুসলিস্নদের অনেকেই যাবেন কবরস্থানে। চিরবিদায় নেয়া স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সজল চোখে এই আনন্দের দিনে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আলস্নাহর দরবারে আকুতি জানাবেন। এরপর বাড়ি ফিরে আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদের প্রধান কর্তব্য সম্পন্ন হবে।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দুস্থরাও বঞ্চিত হবে না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের একভাগ তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হবে।
এবারো রাঙামাটি শহরের ৫টি প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলার ১০ উপজেলাগুলোতে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের মাঝেও লেগেছে ঈদের আনন্দ। ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সমূহের বিঝু উৎসবের মত মুসলামানদের ঈদ উৎসব ও পাহাড়ী বাঙালীর মিলন মেলায় পরিণত হয়। পবিত্র ঈদুল আযহা  জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য শান্তি সম্প্রীতি বয়ে আনবে এমনটা প্রত্যাশা সবার কাছে।

পবিত্র ঈদুল আযহা  উপলক্ষে পাহাড়ের জনপ্রিয় অনলাইন সিএইচটি টুডে ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠক,লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, কলা কৌসুলীসহ সকলকে জানাই ঈদ মোবারক ও ঈদের শুভেচ্ছা ।