শনিবার | ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
আদিবাসী দিবস পালনের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে সচেতন পার্বত্যবাসীর সমাবেশ

আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি জুমল্যান্ড প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের অংশ : ফিরোজা বেগম চিনু

প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০৬:২৩:২২ | আপডেটঃ ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৫৬:৪৮
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেছেন, ১৯৯৭ সনে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সন্তু লারমা উপজাতিয় হিসেবে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, ২০০৭ সনে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি থাকা অবস্থায় চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেছিলেন, পাহাড়ে আদিবাসী নাই, বর্তমান সরকার পাহাড়ের মানুষের প্রতি আন্তরিক বলে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু যারা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চায় এবং আদিবাসী দিবস পালন করে তারা বিচ্ছিন্নতবাদী পার্বত্য এলাকায় জুমল্যান্ড প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে, যেটি রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল এখানকার মানুষ এটি হতে দিবে না।  

ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সমূহের আদিবাসী দিবস পালন ও আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার “সচেতন পার্বত্যবাসী”র ব্যানারে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

পার্বত্য নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটির তবলছড়ির ব্যবসায়ী নেতা হাজী জহির আহম্মদ, রিজার্ভবাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়া বানু, ফার্নিচার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর শুক্কুর, পৌর কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন টিটু, যুবনেতা শহীদুল আলম স্বপন,বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
ফিরোজা বেগম চিনু আরো বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের ব্যানারের ছত্রছায়ায় থেকে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীর কারনে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ। অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে তারা পাহাড়ের আনাচে কানাচে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত নিপীড়ন ও নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পাহাড়ীরা বার্মা, ভারত এবং চীন থেকে বিতাড়িত হয়ে আড়াইশ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে, আর পাহাড়ে বাঙালীরা হাজার হাজার বছর ধরে বসবাস করছে। তাই অ-বাঙালীদের পাহাড়ে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দাবি অনায্য, বিভ্রান্তিকর ও ষড়যন্ত্রমুলক।
তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশকে আলাদা করে জুমল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে  পাহাড়ীদের মুলত: আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি, পাহাড়ীরা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।   



সমাবেশের আগে সকাল ১১টায় পৌরসভা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে মিছিলটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়, এবং সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিভিন্ন উপজেলা থেকে লোকজন যোগ দেয়।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions